দেশজুড়ে

তাড়াশে এলজিইডির খাল পুন:খননে হাজার হাজার কৃষক উপকৃত

  আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : ২৫ এপ্রিল ২০২৩ , ৫:৪৭:১১

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এলজিইডি’র টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ২৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০শতাংশ খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এলজিইডি, ভূগর্ভস্থ পানির উপড় চাপ হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থ পানি সেচ এর আওতায় তাড়াশ উপজেলার বারুহাস দক্ষিণ ভদ্রাবতী ও তালম ইউনিয়নের উত্তর ভদ্রবতী উপ-প্রকল্পের খাল পুনঃখনন কাজে বারুহাস ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ী জামে মসজিদ থেকে তালম ইউনিয়নের রানীরহাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৭ কিলোমিটার খাল পুন:খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বারুহাস ইউনিয়নের দক্ষিণ ভদ্রাবতী ও তালম ইউনিয়নের উত্তর ভদ্রবতী উপ-প্রকল্পের খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। খালটি পুন:খননের দাবিতে এলাকার কৃষকেরা বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কৃষকের এ দূরবস্থা নিরসনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইড) টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খালটি পুন:খনন শুরু করায় সরাসরি উপকৃত হবে এই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক। আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর আবাদি জমি। উৎপাদিত হবে তিন ফসল।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিন ভদ্রাবতী খাল ও উত্তর ভদ্রাবতী খাল দুইটি চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বগুড়া জেলার সিংহভাগ পানি এবং সংশ্লিষ্ট খালের পার্শ্ববর্তি এলাকার পানি খাল দুটি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলনবিলের মধ্যবর্তী বেসানি নদীতে পতিত হয়। এতে করে অতি বৃষ্টির কারনে আগাম বন্যায় এলাকার প্রায় ১ হাজার ৫শ’ ৫০ হেক্টর আবাদি জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। বর্তমানে খাল দুটির খনন কাজ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষনস্থায়ী বাধ দিয়ে সম্পূর্ন পানি নিষ্কাশন করে পুনঃখনন কাজ চলমান রাখা হয়েছে। খাল দুটির পুনঃখনন কাজ স্থানীয় উপকারভোগীদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ সমবায় অধিদপ্তরের পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যদের নিয়ে ৪২টি এলসিএস গ্রুপের মাধ্যমে খাল পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপজেলার তালম ইউনিয়নের নাগরপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আরিফ, আব্দুস সোবাহান ও আব্দুস সামাদ বলেন, খালটি খনন সম্পন্ন হলে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। জলাবদ্ধতা দূর হলে জমিতে তিন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদেরর চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার পানি এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারনে অতি বৃষ্টিতে বা আগাম বন্যায় খালের পাড় উপচে আবাদি ফসল প্লাবিত হয় এবং উৎপাদিত শস্য পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার কারনে কৃষকের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়। ফসল উৎপাদন করতে না পারায় নিঃস্ব হয়ে পড়েন কয়েক হাজারো কৃষক। এ কারণে খালটি উদ্ধারসহ পুন:খননের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক দাবী ছিল দীর্ঘদিনের।

তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশরী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব জানান, এলজিইডি’র টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ২৭ কিলোমিটার খাল খনন শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ কিলোমটার খাল খনন করা হয়েছে। খালটি পুন:খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ১হাজার ৫শ’ ৫০হেক্টর অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে। এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে ও জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে করে প্রায় ২হাজার ৪শ’ ৫০ মে.টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হবে।